বাংলাদেশ হেলথ কল্যাণ ফাউন্ডেশনর কার্যক্রম

স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল আসলেই কথাটি কিন্তু ১০০% সত্যি । কারণ শরীর ভালো না থাকলে, কিছুই ভালো লাগে না বরং সব কিছুই অশান্তি লাগে। আবার শরীর ভালো থাকলে, সব কিছুই ভালোলাগে এবং শান্তি লাগে। আর এই স্বাস্থ্যকে রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন সচেতনতার। কিন্তু কীভাবে আপনি স্বাস্থ্য সচেতন হবেন? কীভাবে মোকাবিলা করবেন সাধারণ ও জটিল সব রোগ ? কথায় আছ্রে “prevention is better than cure”, আর প্রতিরোধ করতে হলে আপনাকে স্বাস্থ্য সচেতন হতে হব।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্ষেত্রে অনিরাপদ বা ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভপাতজনিত কারণে প্রতি ৮ মিনিটে একজন নারী মারা যায়। সরকারি স্বাস্থ্যসেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে দেখা গেছে মাতৃত্বকালীন মৃত্যুর শতকরা ৮০ ভাগই হয়ে থাকে ধাত্রীবিদ্যাজনিত জটিলতার কারণে। উপরন্তু, বাংলাদেশের জনগণের এক চতুর্থাংশই কিশোর-কিশোরী যারা বয়োসন্ধিকাল অতিক্রম করছে। বিশ্বায়নের প্রভাব, নগরায়ন, বিয়ের বয়স পিছিয়ে যাওয়া এবং মেলামেশার সুযোগ বৃদ্ধির কারণে কিশোর-কিশোরীরা আরটিআই, এসটিআই, এইচআইভি-এইডস এবং অনাকাক্সিক্ষত মাতৃত্বের ঝুঁকির মধ্যে আছে। অথচ এসমস্ত বিষয়েতাদের যে তথ্য এবং সেবা প্রয়োজন তা থেকে তারা বঞ্চিত হলেও মা-বাবা, পরিবার, সমাজ, শিক্ষাব্যবস্থা এমনকি স্বাস্থ্য ব্যবস্থারও সেদিকে কোনো ভ্রক্ষেপ নেই। বয়োসন্ধিকাল পেরোচ্ছে এমন ছেলেমেয়েরা তাদের সহপাঠী বা সমবয়সীদের কাছ থেকে শিক্ষালাভ করে থাকে। কিন্তু এবিষয়ে তাদের যথেষ্ট জ্ঞান নেই বা থাকলেও ভুল জ্ঞান আছে। ভুল জ্ঞান থেকে ভুলেরই পুনরাবৃত্তি হয়। যৌন ও প্রজনন-স্বাস্থ্য এবং এইচআইভি-এইডস বিষয়ে তাদের সঠিক এবং পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান দেয়াটা তাই জরুরি। এই দুটি বিষয় আমাদের দেশে আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয় এবং আলাদাভাবেই এ-বিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় যা কিশোর-কিশোরীদের এবিষয়ক তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা
বাংলাদেশে স্বাস্থ্য সেবায় সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, বিভিন্ন এনজিও ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। সরকারি খাতে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় নীতি প্রণয়ন, পরিকল্পনা এবং সামষ্টিক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহনের ব্যাপারে শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে। মন্ত্রণালয়ের অধীনে চারটি অধিদপ্তর যথাক্রমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, নার্সিং সেবা পরিদপ্তর ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর নাগরিকদের স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করে থাকে।
স্বাধীনতার পর হতে বাংলাদেশ স্বাস্থ্য সেবার উপর প্রভূত কাজ করেছে। সরকার সকল জনগণ বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মৌলিক স্বাস্থ্য সুবিধাসমূহ নিশ্চিত করার লক্ষে স্বাস্থ্য নীতি প্রণয়নে কাজ করে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও প্রজনন স্বাস্থ্যসহ পরিবার পরিকল্পনার বর্তমান অবস্থা বিশেষ করে নারী, শিশু ও প্রবীণদের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং শারীরিক, সামাজিক, মানসিক ও আত্মিক সুস্থতার ক্ষেত্রে টেকসই উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা খাত (এইচএনপি) সেক্টরের মূল লক্ষ্য। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের অধীনে জাতীয় স্বাস্থ্য নীতি, জাতীয় খাদ্য ও পুষ্টি নীতি এবং জাতীয় জনসংখ্যা নীতি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
স্বাস্থ, পুষ্টি ও পরিবার পরিকল্পনা সেবায় গ্রাম ও শহর উভয় ক্ষেত্রে এনজিও সমূহের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। তারা মূলত: পরিবার পরিকল্পনা, মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য অধিক্ষেত্রে কাজ করে থাকে। সাম্প্রতিককালে এনজিওসমূহ তাদের সেবার পরিধি বাড়িয়েছে এবং শহরে প্রাথমিক সেবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন কাজ করছে।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত পুনঃগঠন ক্ষেত্রে ১৯৮২ সালে প্রণীত ঔষধ নীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিলো ক্ষতিকর, মূল্যহীন ও অপ্রয়োজনীয় ঔষধ বাজার থেকে অপসারণ করা এবং স্বাস্থ্য সেবার সকল স্তরে প্রয়োজনীয় ঔষধ ন্যায্য মূল্যে সরবরাহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। ১৯৮২ সালের জাতীয় ঔষধ নীতি সাফল্যজনকভাবে রূপায়নের ফলে বাংলাদেশে ফার্মাসিউটিকাল খাতে প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়েছে।
সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি) সমূহ অর্জনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে কিছু সূচক যেমন: শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস, শিশু ও মায়েদের টীকা দেয়া, ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি দূরীকরণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে অসাধারণ অর্জন সাধিত হয়েছে। অন্যান্য সুচকসমূহে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকায় সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের জন্য সমন্বিত প্রয়াস গ্রহণ করতে হবে।
এই লক্ষ্যে বাংলাদেশ হেলথ কল্যাণ ফাউন্ডেশন তার আজীবন সদস্য/সদস্যদের স্বাস্থ্য শিক্ষার উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *